মেঘনা নদীতে দুই লঞ্চের ভয়াবহ সংঘর্ষ, মা মেয়ের মৃর্ত্যু
বরিশাল-ঢাকা নৌ-পথের মেঘনা নদীর চাঁদপুর সংলগ্ন মাঝ কাজীর চর এলাকার মাঝ নদীতে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন।
হতাহতদের মধ্যে নিহত দুজনসহ আহত তিনজন এমভি কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের এবং বাকি আহত পাঁচজন এমভি ফারহান-৯ লঞ্চের যাত্রী ছিলেন। কীর্তনখোলা লঞ্চ কোম্পানির সহকারী মহাব্যবস্থাপক বেল্লাল হোসেন জানান, রাতে বরিশাল থেকে যাত্রী নিয়ে এমভি কীর্তনখোলা-১০ ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। রাত ১টা নাগাদ লঞ্চটি মেঘনা নদীর মাঝ কাজীর চর অতিক্রম করার সময় ঢাকা থেকে ভান্ডারিয়াগামী এমভি ফারহান-৯ লঞ্চ কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের ডানপাশে মাঝ বরাবর আঘাত হানে।
এতে কীর্তনখোলা লঞ্চের মাঝ বরাবর দ্বিতীয় তলার অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। দুর্ঘটনায় কীর্তনখোলা লঞ্চের দ্বিতীয় তলার ডেকে থাকা যাত্রী মা ও মেয়ে নিহত হন। তবে তাদের নাম জানাতে পারেননি তিনি।
দুর্ঘটনায় ওই লঞ্চের আরও ৩ যাত্রী আহত হন।
পরে লঞ্চটি ফের ঢাকার উদ্দেশে রওনা করে গতকাল সকাল পৌনে ৯টায় গিয়ে সদরঘাটে পৌঁছে।
দুর্ঘটনার জন্য এমভি ফারহান-৯ লঞ্চকে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে থানায় এবং মেরিন কোর্টে মামলা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত লঞ্চ কোম্পানির সহকারী মহাব্যবস্থাপক বেল্লাল হোসেন।
ঘাতক ফারহান-৯ লঞ্চের করণিক আল-আমিন দাবি করেছেন, ঘন কুয়াশার কারণে তাদের লঞ্চ দুর্ঘটনাকবলিত হয়।
দুই লঞ্চে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি করেছে বিআইডব্লিউটিএ।
সংস্থার অতিরিক্ত পরিচালক (বন্দর) সাইফুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে গতকাল সকালে গঠিত ৪ সদস্যের এই কমিটিকে পরবর্তী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনার ঘটনায় পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ এমভি ফারহান ৯ লঞ্চের মাস্টার আফতাব আলী ও সুকানি আবদুল হামিদকে হুলারহাট নদী বন্দর থেকে আটক করেছে।
পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম বাদল জানান, বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাদের আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এই দুর্ঘটনায় দুটি লঞ্চেরই অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

0 comments: