নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আপতকালীন কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায়দের মাঝে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধূরী কোন প্রকার ফটোসেশান না করে ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে।
কোন প্রকার যুদ্ধ ছাড়াই অচল করে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। ইউরোপ থেকে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে যাওয়া এ ভাইরাসের প্রকোপে অবরুদ্ধ, অচলাবস্থা বিরাজ করছে দেশজুড়ে।
করোনাকালে অসহায়দের পাশে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী নেই বলে কতিপয় এক চক্র অভিযোগ তুলছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন প্রতিনিয়ত কোন না কোন জায়গায় ছবি তোলে অসহায়দের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের জানান দিচ্ছে।
চলমান পরিস্থিতিতে আলোড়ন নিউজের এক প্রতিনিধি নানান প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলে,তার জবাবে রেজাউল করিম চৌধুরী যা বলেন
সমাজের কোন কোন শ্রেণির মাঝে আপনার ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যহত রেখেছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে নগরের আওয়ামী মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধূরী বলেন, নগরের ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড, সিটি করপোরেশনের ৪১ ওয়ার্ডের সবটাতে সাধ্যমতো নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। কোনো সাহায্য আমি সরাসরি পৌঁছে দিয়েছি, আবার কোনো কোনো সাহায্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাধ্যমে সমন্বয় করে বিতরণ করেছি। ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, হিন্দু, বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির-গির্জা সব জায়গাকে সাধ্যমতো সাহায্যের আওতায় আনার চেষ্টা করেছি আমি।
একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এই পরিস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গের খোঁজখবরাখবর নিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, আওয়ামী পরিবারে যারা টানা লকডাউনে সঙ্কটে পড়েছে, কিন্তু কাউকেই বলতে পারছে না, আমি সেইসব পরিবারগুলোকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি, করছি। বিকাশের মাধ্যমেও আর্থিকভাবে অনেক পরিবারকে সাহায্য দিয়েছি। দেশের মানুষ করোনা থেকে মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এ অর্থসাহায্য, খাদ্যবণ্টন চলবে। রমজানকে ঘিরেও চলবে ইফতারসামগ্রী বিতরণ। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আমি সর্বোচ্চ করছি, করে যাবো।’এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই। তাছাড়া আমার সম্বন্ধে আগ থেকে যাদের ধারণা আছে, তারা আরো স্পষ্ঠ ভাষায় বলতে পারবে। নিজ মুখে নিজের প্রশংসনীয় কাজ বলতে আমার ভালো লাগে না। এটা অনেকে পারলেও কেন জানি আমি পারি না।
এর আগে এমন কোন দুর্যোগ মোকাবিলায় অংশগ্রহণ ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় থানা বাঁশখালিতে ব্যক্তি-উদ্যোগে সাহায্য নিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে ছুটে গেছি। বিপদগ্রস্তদের পাশে এই যে ছুটে যাওয়া, দাঁড়ানো সবই চিত্তের তাগাদা, মানসিক প্রশান্তির জন্য। এভাবে যেভাবেই সুযোগ পেয়েছি নিজের জায়গা থেকে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। তখন কোনো প্রচার চাইনি, এখন কেন চাইবো। মানুষকে জানাবো যে, আমি এই দিয়েছি, সেই দিয়েছি।
বর্তমান মেয়র তো নগরের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে জীবাণুনাশক স্প্রে হতে শুরু করে হতদরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন, সেই তুলনায় আপনাকে তো কম দেখা যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন,আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু স্বেচ্ছাকর্মী নিয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জীবাণুনাশক স্প্রে করেছি।আমি ছোট মানুষ, খুব বেশি সামর্থ্য আমার নেই। হয়তো বৃহৎ পরিসরে, বড় কোনো উপকার আমি করতে পারছি না। কিন্তু আমি এটুকু বলতে পারি আমাকে দিয়ে কখনো মানুষের অপকার হবে না। হবে না অপরাজনীতি, নোংরামি, আত্মপ্রচারের উদগ্র প্রতিযোগিতা।আর তাছাড়া জীবাণুনাশক স্প্রে ও নগরের সৌন্দর্য বন্ধনে একজন মেয়র হিসেবে কাজ করে যাওয়াটা স্বাভাবিক। আর এসব কাজ তো হচ্ছে সরকারি অর্থায়নে, ব্যক্তি অর্থায়নে নয়।
পরিশেষে নগরবাসীর উদ্দেশ্য বলার কিছু আছে কিনা এমন প্রশ্নে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন আমি মাঠে নেই, আমাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এমন বিভ্রান্তিকর প্রচার যারা চালাচ্ছে, তাতে আমার বলার কিছু নেই।তবে তাদের জন্য আমার মায়া হওয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই। আমি পারি না কাউকে সাহায্য করে প্রচার করতে। আর এই প্রচার না চাওয়া কি আমার অপরাধ? আর তাই যদি হয়ে থাকে রাজনীতির নামে অসম, লোকদেখানো প্রতিযোগিতা, অশোভন আচরণ আমাকে দিয়ে এই বয়সে আর হবে না।
স্থানীয় সূত্র জানান, না বলে-না কয়ে, ডাকঢোল না পিটিয়ে, ছবি না তুলে ও কোন প্রকার আনুষ্ঠানিকতা না করে নীরবে আপতকালীন অসহায়দের ঘরের দোয়ারে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে রেজাউল করিম চৌধূরী ও তার অনুসারীরা।
যারা শুধুমাত্র বিরোধিতার খাতিরে রেজাউল করিম চৌধূরীর সমালোচনা করে যাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য স্থানীয়দের পক্ষে নাম প্রকাশে অনিশ্চুক এক সমাজকর্মী বলেন ,অন্তত প্রিয় স্বদেশ ও বৈশ্বিক মহামারীর এই সময়টুকুতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে অসহায় মানুষের পাশে যার যার অবস্থান থেকে সাধ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাহায্যের হাত বাড়ায়।যদি আল্লাহ সুবাহানাতালা সবাইকে ভালো রাখেন সুস্থ্ রাখেন,প্রিয় দেশে,রাজনীতির মাঠে-রাজনীতি করার সময় আমরা অবশ্যই পাব। মহান রব সবাইকে সুস্থ রাখুক,নিরাপদে রাখুক,সবাই নিজ নিজ ঘরে থাকুন অন্যকে ঘরে অবস্থান করার জন্য উৎসাহিত করুন।সুন্দর আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা আবারও একত্রিত হব ইনশাআল্লাহ।
সূত্র : আলোড়ন নিউজ

0 comments: