Saturday, September 21, 2019

৮ বছর ধরে জালিয়াতি করে বেতন-ভাতা উত্তোলন

SHARE
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মাড়িয়া মহাবিদ্যালয়ে জালিয়াতি করে আরবি শিক্ষক নিয়োগ! ৮ বছর ধরে বেতন-ভাতা উত্তোলন .
Image result for জালিয়াতি চাকুরি
জালিয়াতি করে রাজশাহীর বাগমারার মাড়িয়া মহাবিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে সামিউল ইসলামকে নিয়োগ দেন অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ। এই কলেজের আরবি বিষয়ের অনুমোদন না থাকলেও দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বেতন ভাতা সুবিধা ভোগ করে আসছে প্রভাষক সামিউল ইসলাম। কলেজে আরবি বিষয় অনুমোদন না থাকলেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে কলেজ থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনসহ সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া মহাবিদ্যালয়টি গত ১১ মে ১৯৯৩ ইং সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমের দিক দিয়ে বেশ সুনাম রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভালো রেজাল্ট করে থাকে। ফলে ¯’ানিয় সংসদ সদস্য ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ কে বেশ কয়েক বার পুরস্কারও দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি সরকারি মাš’লি পেমেন্ট অর্ডারের (এমপিও) আওতায় আসে। কিš‘ এই কলেজে আরবি বিষয়ের কোন অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে আরবি বিষয়ের প্রভাষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেন অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ। গভর্ণিং বডির সদস্যগণের নিয়োগ সংক্রান্ত সভা ও সহি স্বাক্ষর ছাড়াই আরবি বিষয়ে মোঃ সামিউল ইসলাম নামে একজনকে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া হয়। প্রেক্ষিতে বেতন-ভাতার জন্য এমপিও কপিতে নাম সংযোজন করেন গত ২৫/০৪/২০১১ সালে সরকারি ভাবে বেতন-ভাতা মুন্জুরি করেন। নিয়োগের বিষয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদের সাথে শিক্ষকগণের বেশ কয়েকবার সভা হলেও অধ্যক্ষ এই নিয়োগের বিষয়টি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান এবং সঠিক তথ্য দিতে অপরাগত হওয়ায় বিষয়টি আজও ঝুলে আছে। কলেজের সে সময়ের গভর্ণিং বডির বেশ কয়েকজন সদস্য জানান, আমরা এই নিয়োগ সম্পর্কে কিছুই জানিনা, তার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন দিন স্বাক্ষর করি নাই। এমনকি কোথায়, কখন এই নিয়োগ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা আমরা জানিনা। ডিজির প্রতিনিধি, বিষয় বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি কে ছিলেন তাও জানিনা। এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা বিভাগের তদন্তেও তার জালিয়াতি নিয়োগ প্রমাণিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে, বাগমারা মাড়িয়া মহাবিদ্যালয়ে আরবি সাবজেক্ট অনুমোদন না থাকায় এ বিষয়ের প্রভাষক সামিউল ইসলামের নিয়োগ বৈধ নয় বলে মত দেওয়া হয়। তার পরও তিনি প্রভাষক দীর্ঘদিন যাবত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন । উক্ত কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, কলেজের আরবি বিষয় অনুমোদন না থাকলেও আইনঅনুযায়ী কোন ভাবেই এই সাবজেক্ট এর নিয়োগ দেওয়া যায় না। অধ্যক্ষ মহাদয়ের অদৃশ্য খুটির জোরেই অবৈধ ভাবে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দিয়ে সরকারি ভাবে বেতন-ভাতা মুন্জুরি করে দিয়েছন। আর এভাবে অবৈধ প্রভাষক পদে নিয়োগ নিয়ে ৮ বছর ধরে সামিউল ইসলাম সরকারি কোষাগার থেকে প্রভাষক হিসেবে প্রায় ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। এজন্য শিক্ষক-কর্মচারীগণ এই অবৈধ নিয়োগের সুষ্ঠ বিচার দাবি করে বলেন, একজন অধ্যক্ষর কাছ থেকে এমন নীতি বহির্ভূত কাজ কাম্য নয়। কলেজে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়ে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন, তা কতটা নৈতিক? দেখার কী কেউ নেই? কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদের যোগাযোগ করা হলে, তিনি স্বীকার করেন আরবি বিষয় অনুমোদন নেই। তার পরেও কি ভাবে প্রভাষক সামিউল র্দীঘ দিন যাবত বেতন-ভাতাসহ সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে এমন দূর্নিতি ও অনিয়মের বিষয় জানতে চাইলে প্রতিবেদকে ম্যানেজ চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ। প্রভাষক হিসাবে নিয়োগ পেয়ে র্দীঘ দিন যাবত বেতন-ভাতার সুবিধা ভোক করছেন জানতে চাইলে এ বিষয়ে প্রভাষক সামিউল ইসলাম বলেন, এর চেয়ে বড় বড় দূর্নীতি আছে, হচ্ছে তাতে আপনার সমস্যা কি? তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা কি আপনাকে দায়িত্ব দিয়েছে ? কোথায় কি হচ্ছে দূর্নীতির খবর নিতে। এসময় এ প্রতিবেদক কে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে কল কেটে দেন। এ বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক নেসার উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
SHARE

Author: verified_user

https://zikrulsirfarmgate.blogspot.com/

0 comments: