বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ কচুয়া উপজেলা শিশু ফেরামের পক্ষ থেকে খোলা চিঠিটি লিখেছেন কচুয়ার শিশু প্রতিনিধি ফারজানা আক্তার
তার বার্তাটি হুবহু তুলে ধরা হলোঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী... আমি ফারজানা আক্তার নবম শ্রেনীর ছাত্রী। আমি জাতীয় শিশু ফোরামের একজন সদস্য।
সাম্প্রতিক বছর গুলোতে আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন যে আমাদের দেশের মেয়ে শিশুরা শিক্ষকদের থেকে বিশেষ করে ধর্ষণ, ধর্ষনের কারনে আত্মহত্যা, যৌন নিপীড়ন ও ইভ টিজিং এর মতো অপরাধের শিকার হচ্ছে। ছেলে শিশুরা শারীরিক ও মানসিক সহিংসতার শিকার হচ্ছে। যা শিশুদের জীবনে দীর্ঘ মেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে...। এতে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিই নয় বরং গোটা সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়..। পিতা - মাতার পরেই শিক্ষকের স্থান। আমরা যখন স্কুলের জন্য বাড়ি থেকে বের হই তখন ভাবি কোনো বিপদ হলে শিক্ষক বুঝি আমাদের রক্ষা করবেন। কিন্তু সেই রক্ষক যখন ভক্ষকের রূপ নেয়, তখন নিজেদের কে অপরাধী বলে মনে। তখন শুধু ভাবি আমরা কি এমন অপরাধ করে যার জন্য আমাদের পিতার মতো শিক্ষক আজ ভক্ষক...। বলতে পারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী... কি অপরাধ আমাদের..?? কেনো এতবড় শাস্তি ভোগ করব আমরা...?? তবে কি স্কুলে নিজেদের নিরাপদ ভাবা, মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়া এটাই কি আমাদের সব থেকে বড়ো অপরাধ...?? তখন নিজেদের কে সবথেকে পাপী মনে হয় যখন পিতার মতো শিক্ষক আমাদের দিকে খারাপ দৃষ্টি দেয়...। আমরা তো কারো কোনো ক্ষতি করি নি তাহলে কোন অপরাধের শাস্তি দেয় আমাদের শিক্ষকেরা...?? আমরা অনেক বড় হতে চাই, মানুষের মতো মানুষ হতে চাই, ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম খোদাই করতে চাই তবে কোনো ধর্ষিতা হয়ে নয়.. দেশের মূক উজ্জল করে..। আমরা আর কোনো নুসরাতের মৃত্যু দেখতে চাই না...। আপনি তো "মা" আমাদের সবার মা.. সন্তানদের কষ্ট কি আপনাকে একটু ও কষ্ট দেয় না..??? আজ একজন মায়ের কাছে তার সন্তানেরা এই পৃথিবীতে সুন্দর ভাবে বাঁচতে চাচ্ছে...। আমরা নতুন আইন চাই... ধর্ষকের ফাঁসি... যাতে একজনের শাস্তি দেখে অন্য অপরধী ও অপরাধ করতে ভয় পায়..... সত্যিই এরা বোঝে না যে শরীরের আঘাত আর অশ্লীল ব্যাবহার নয় স্নেহ মমতাই পারে আমাদের জীবনে শৃংখলা আনতে. আমরা ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম স্বর্নক্ষরে খোঁদাই করতে চাই ।
কচুয়া উপজেলা শিশু ফেরামের পক্ষ থেকে খোলা চিঠিটি লিখেছেন কচুয়ার শিশু প্রতিনিধি
ফারজানা আক্তার
বাগেরহাট শিশু প্রতিনিধি (newsinfo24)
0 comments: